Jagadish Chandra Bose Scholarship : আমাদের রাজ্যে ট্যালেন্টের কমতি নেই। কিন্তু সেই ট্যালেন্ট সঠিক পথ পায় না। এই কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে হয় তাদের। তবে আর চিন্তা নেই।
আজকের প্রতিবেদনে আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি নতুন একটি স্কলারশিপের খোঁজ। যারা বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা করার চিন্তাভাবনা করছো, এই স্কলারশিপ তাদের অনেকটা সাহায্য করবে।
পড়াশোনা করার খরচ নেহাত কম নয়। আর তা যদি হয় বিজ্ঞান বিভাগ, তাহলে তো কথাই নেই। বিজ্ঞান বিভাগের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় খরচ একটু বেশিই হয়। আর এই খরচ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা খুবই কঠিন। তাই চলে এসেছে জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)।
আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নাম জানেনা এমন মানুষ পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া প্রায় এক প্রকার অসম্ভব। তিনি বাঙালির নাম জগতের কাছে উজ্জ্বল করেছেন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বৈজ্ঞানিক হিসেবে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে সম্মান জানিয়ে শুরু করা হয়েছে এই স্কলারশিপ।
যারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চাও বা বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছো, এটি তাদের কাজে লাগবে। কিভাবে আবেদন করবে জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ? আবেদন করার সময় কী কী নথিপত্র লাগবে? আবেদন করার যোগ্যতা কী? এই ধরনের সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আমাদের আজকের প্রতিবেদনে।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship) কী?
এই স্কলারশিপ পশ্চিমবঙ্গের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয়ে থাকে। যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে ইচ্ছুক এই স্কলারশিপ বিশেষভাবে তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি জুনিয়র ও সিনিয়র দুই ভাগে বিভক্ত। এই স্কলারশিপ পেতে গেলে আবেদনকারীদের বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচিত হলে তবেই মিলবে আর্থিক সুবিধা।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ আবেদন করার যোগ্যতা :-
যারা মাধ্যমিকের পর বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চায় তারা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবার উচ্চ মাধ্যমিকের পর বিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হলেও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যাবে। আমরা আগেই বলেছি এই স্কলারশিপটি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি হলো, JBNSTS বিজ্ঞানী কন্যা মেধা স্কলারশিপ (জুনিয়র) আর দ্বিতীয়টি হলো, JBNSTS বিজ্ঞানী কন্যা মেধা স্কলারশিপ (সিনিয়র)।
JBNSTS বিজ্ঞানী কন্যা মেধা স্কলারশিপ (জুনিয়র) –
- কেবলমাত্র ছাত্রীরাই এই স্কলারশিপের জন আবেদন করতে পারবে।
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, যে সমস্ত ছাত্রীরা বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবে একমাত্র তারাই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে।
- এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে গেলে ছাত্রীকে মাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ মার্কস পেতে হবে।
- ২০২৪ সালের আগে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবে না।
- কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, বায়োলজি, কম্পিউটার সাইন্স, স্ট্যাটিসটিক্স আর অংকের মধ্যে থেকে যেকোনো তিনটি বিষয় বাছাই করে নিতে হবে।
JBNSTS বিজ্ঞানী কন্যা মেধা স্কলারশিপ (সিনিয়র) –
- কেবলমাত্র ছাত্রীরাই এই স্কলারশিপের জন আবেদন করতে পারবে।
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে।
- উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর, যে সমস্ত ছাত্রীরা স্নাতক স্তরে বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ভর্তি হবে একমাত্র তারাই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে।
- এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে গেলে ছাত্রীকে উচ্চমাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় ভালো মার্কস পেতে হবে।
- ২০২৪ সালের আগে যারা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবে না।
- যারা উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতক স্তরে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে, তারাও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে বিজ্ঞান বিভাগের পাস কোর্স অথবা নার্সিং কিংবা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হলে, এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যাবে না।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি :-
এই স্কলারশিপে আবেদনের জন্য বেশ কিছু নথিপত্র তথা ডকুমেন্টের প্রয়োজন পড়বে। সেগুলি হল-
- শেষ পরীক্ষার মার্কশিট।
- একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার রশিদ অথবা প্রমাণপত্র। তবে যদি স্নাতক স্তরে এই স্কলারশিপে জন্য আবেদন করা হয় সেক্ষেত্রে প্রথম বর্ষে ভর্তির রশিদ।
- আবেদনকারী ছাত্রীর 100KB সাইজের মধ্যে রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- আবেদনকারী ছাত্রীর 50KB সাইজের মধ্যে স্বাক্ষর।
- আবেদনকারী ছাত্রীর ব্যাংকের পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠার জেরক্স।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ যোগ্য ছাত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া :-
এই স্কলারশিপে যোগ্য প্রমাণিত হওয়ার জন্য আবেদনকারী ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। জুনিয়র বিভাগের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র লিখিত পরীক্ষা আর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। তবে সিনিয়র বিভাগের ক্ষেত্রে এই দুটি টেস্টের পাশাপাশি সাইন্টিফিক ক্রিয়েটিভ টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হয় ছাত্রীদের। এই টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারলে তবেই জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এর আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ আবেদনের পদ্ধতি :-
- সবার প্রথমে জগদীশ বোস ন্যাশনাল ট্যালেন্ট সার্চের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে।
- এরপর অ্যাপ্লাই অনলাইন এপ্লিকেশন অপশনটি বাছাই করে নিতে হবে।
- তারপর জুনিয়র অথবা সিনিয়ার ট্যালেন্ট সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
- এই অপশনে ক্লিক করার পর তোমাদের সামনে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে। সেখানে যে সমস্ত তথ্য যাওয়া হবে সেগুলি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি স্ক্যান করে আপলোড করে দিতে হবে।
- তারপর আরো একবার ভালো করে তোমাদের দেওয়া তথ্যগুলি মিলিয়ে নেবে। যদি মনে হয় কোন ভুল নেই তাহলে সাবমিট অপশনে ক্লিক করতে হবে।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এর এডমিট কার্ড ডাউনলোডের প্রক্রিয়া :-
পরীক্ষার সর্বাধিক ৭ দিন আগেই এডমিট কার্ড চলে আসে। এই এডমিট কার্ড তোমাদের জগদীশ বোস ন্যাশনাল ট্যালেন্ট সার্চ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হবে।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এর সিলেবাস :-
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিষয়ে তোমরা যা যা পড়েছো সবই সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি NCERT বইগুলি তোমাদের দরকার পড়বে। সাধারণত বেশিরভাগ প্রশ্ন এই বই থেকেই আসে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বোর্ডের বইগুলিও কিন্তু খুবই দরকারি। প্রতিটি টপিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লে লিখিত পরীক্ষা সহজেই পাস করা সম্ভব।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ (Jagadish Chandra Bose Scholarship)-এ কত টাকা বৃত্তি পাওয়া যায়?
জুনিয়র বিভাগে দুই বছর অর্থাৎ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময় প্রত্যেক মাসে ১২৫০ টাকা করে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বই কেনার জন্য প্রত্যেক বছরে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২৫০০ টাকা দেয়। অপরদিকে সিনিয়র বিভাগে UG কোর্স চলাকালীন প্রত্যেক মাসে ৪০০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বই কেনার জন্য প্রত্যেক বছরে অতিরিক্ত ২৫০০ টাকা করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ স্কিমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক:
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ স্কিমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিঙ্ক | এখানে ক্লিক করুন |
জগদীশচন্দ্র বোস স্কলারশিপ স্কিমের বিজ্ঞপ্তির লিঙ্ক | এখানে ক্লিক করুন |